কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান বাক্সে মিলল পৌনে ২ কোটি টাকা

রুহুল আমিন, কিশোরগঞ্জ থেকে:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ৮ টি দান বাক্সে পাওয়া গেল ১ কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১ টাকা। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এছাড়াও দান বাক্সে পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার। করোনা পরিস্থিতিতে এবার ৬ মাস ৭ দিন পর খোলা হয়েছে এসব দান বাক্স। প্রতি ৩ মাস পর পর এই সব দান বাক্স খোলার কথা থাকলেও এই বার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি ৬ মাস ৭ দিন পর খোলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা গণনার কাজ। তবে এই ৬ মাসে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণের চলাচল সীমিত থাকায় বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার আগের তুলনায় অনেক কম হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০ টায় ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান বাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, সদস্য সাইফুল হক মোল্লা দুলু সহ জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে ৮টি দান বাক্স খোলা হয়। এরপর বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ১২ টি বস্তায় ভরা হয়। পরে শুরু হয় টাকা গণনার কাজ।
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের সভাপতি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ সারোয়ার মুর্শেদ চৌধুরী টাকা গণনার কাজ পরিদর্শন করেন। এছাড়াও কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার তত্ত্বাবধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম, পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকত উদ্দীন ভূঞা, রূপালী ব্যংকের এজিএম অনুফ কুমার ভদ্র প্রমুখ টাকা গণনার কাজ তদারকি করেন। এতে মাদ্রাসার ৬০ জন ছাত্র টাকা গণনার কাজে অংশ নেন।
এর আগে সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দান বাক্স খোলা হয়েছিল। এতে পাওয়া গিয়েছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকা। যা দানবাক্সগুলো থেকে পাওয়া দানের হিসাবে এ যাবতকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
কথিত আছে, এই মসজিদে সহীহ নিয়তে কেউ মান্নাত করলে মহান আল্লাহ পাক তার উদ্দেশ্য হাসিল করেন।