
মোঃ শহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মিষ্টিপানের কদর দেশের মাটিতেই নয়, বিদেশেও রয়েছে। পানের আবাদ করে প্রতিবছর লাভবান হলেও এবার দাম কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি চাষিদের। করোনা, ঘূর্ণিঝড় আম্পান আর হুটহাট বৃষ্টির কারণে এ অবস্থা বলে মনে করেন তারা।
পূর্ব আকাশে সূর্যের দেখা মেলার আগেই শহরের নতুন হাটখোলা বাজারে পান নিয়ে হাজির হন ঝিনাইদহ সদর, কালীগঞ্জ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পানচাষিরা। ভোরেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে বাজার।
এই বাজারেই প্রতি বৃহস্পতি ও রোববার বিক্রি হয় মিষ্টিজাতের পান। বাজারে প্রতি ৮০টি পান প্রকার ভেদে ৫ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা কম। স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা এখান থেকে পান কিনে পাঠান দেশের বিভিন্ন স্থানে।
কৃষকরা বলছেন, করোনা, ঘূর্ণিঝড় আম্পান আর বৃষ্টির কারণে এ বছর পানের ফলন ভালো হয়নি। এর ওপর দাম কম যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে নিরাপদ পান উৎপাদনে কৃষি বিভাগ থেকে সম্ভাব্য সব রকমের প্রযুক্তি সহায়তা হচ্ছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।
কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম বলেন, কৃষকরা যেন ন্যায্য দাম পায় সে জন্য বড় বড় রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সংযোগের ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা চলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে পানের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন আশা করা হচ্ছে ৩০ হাজার টন।